গল্প অভিশপ্ত গ্রাম লেখক__মোঃ__নিশাদ
মেয়েটা নৌকায় উঠে বসায় আমি আবারো নৌকা নিয়ে আস্তে লাগলাম আমাদের ঘাটের দিকে।
আমি নৌকা বাই আর মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করি আচ্ছা আপনি এভাবে মুখে ঘোমটা দিয়ে রাখছেন কেনো৷ আর এতরাতে অন্ধকারে নদীর ঘাটে আসছেন কেনো যদি কোন সমস্যা হয় ভয় করেনা আপনার৷
আমার কথার জবাবে মেয়েটা বললো, না আমি ভয় পাইনা। আমার ভয় নেই।
মেয়েটার কথায় মুসকি একটা হাসি দিয়ে বললাম, মেয়েরা আবার এতটা সাহসী হয় নাকি, আচ্ছা আমাদের ঘাট এসে গেছে নামুন৷
কথাটা বলে আমি আগে নামলাম, নেমে একটু এগিয়ে মেয়েটাকে বললাম কই, আসুন নামুন আমি চলে গেলে পড়ে অন্ধকারে জাবেন কিভাবে।
কিন্তু মেয়েটার কোন সারা শব্দ নেই কেনো৷ এই ভেবে পিছনে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা নেই, মানে কি মেয়েটা কোথায় গেলো নৌকাতেই তো ছিলো। আমার সামন দিয়ে গেলে তো আমি দেখতাম, আমি আশপাশে সবখানে খুঁজে দেখলাম, মেয়েটাকে ডাকলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না মেয়েটাকে।
মেয়েটাকে খুঁজে না পেয়ে বুঝে গেলাম বিষয়টা সাভাবিক কিছু না। এই ভেবে সেখানে আর দেরি না করে চলে গেলাম বাড়িতে৷
বাড়িতে যাবার কিছুক্ষন পর ঘুমিয়ে পড়লাম।
পড়েরদিন সকাল বেলা দাদা দাদিকে নিয়ে আসার জন্য আবারো রওনা করলাম নদীর ঘাটের দিকে, সেখানে যেতে পথে নাহিদের সাথে দেখা ওর সাথে দেখা হতেই ও বললো।
কিরে কোথায় যাচ্ছিস,
ওর কথার জবাবে ওকে সব ঘটনা খুলে বললাম, ওকে বললাম দাদা অসুস্থ ওনাকে নিয়ে আসতে যাচ্ছি
আমার কথায় নাহিদ বললেন, ওহ ঠিক আছে যা বাড়িতে এসে দেখা করিস তখন আড্ডা দিবো।
ওর কথার সম্মতি দিয়ে নদীর ঘাটের দিকে যেতে লাগলাম। নদীর ঘাটে গিয়ে সেখানকার একটা নৌকা নিয়ে চলে গেলাম নদীর ঐ পারে, ঐ পারে গিয়ে ঘাটে নৌকাটা বেঁধে, কিছুক্ষনের মধ্যে চলে গেলাম ডাক্তার বাবুর বাড়িতে সেখানে যেতে ডাক্তার বাবু বললেন।
বাবা নিশাদ, আমিতো ওনার চিকিৎসা করছি ঔষধ ও খাওয়াই দিছি, কিন্তু ওনার তো ব্যাথা পুরুপুরি কমছেনা। তুমি বরং ওনাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে যাও।
ডাক্তার বাবুর কথায় আমি দাদাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম, হাসপাতালে জাবার পর, সেখানকার ডাক্তার দাদার চিকিৎসা করতে লাগলেন, হাসপাতালে ডাক্তার বললেন, ওনাকে দুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে,
কিহহ আর করার ডাক্তারের কথা তো রাখতে হবে, হাসপাতালে যেতে দাদাকে ডাক্তার দেখাতে রাত হয়ে গেছে৷ ডাক্তারের কথায় দাদাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দাদিকে বললাম। দাদি ডাক্তার তো বললো দাদাকে দুদিন থাকতে হবে, আমি বরং বাড়িতে চলে যাই৷ পড়শু এসে তোমাকে আর দাদাকে নিয়ে বাড়িতে যাবো।
কথাটা বলে আগের রাতের মত সেই রাতেও বেড়িয়ে পড়লাম।
চাঁদনি রাত, হাতে হাড়িকেন নিয়ে হাঁটতে লাগলাম নদীর ঘাটের দিকে, তা প্রায় ঘন্টা খানেক হাঁটার পর চলে আসলাম নদীর ঘাটে, ঘাটে এসে দেখলাম আমার রাখা নৌকাটা ঠিক জায়গায় বাঁধা, আমি নৌকার কাছে এসে নৌকাতে উঠতে গিয়ে ভয়ে আবার দু পা পিছিয়ে আসলাম, কারণ আমার নৌকায় আগে থেকেই বসে ছিলো এক বৃদ্ধা, ওনার চুলগুলো এলোমেলো শরীলের মধ্যে কেমন ঘা, সৃষ্টি হইছে, দেখতেও ভয়ংকর লাগছে।
আমি ওনাকে দেখে বলে উঠলাম, কে আপনি, আমার নৌকায় বসে কেনো, নামুন নামুন বলছি।
আমার কথায় ওনি বললেন, ওপারে জাবো, ওপারে
ওনার কথার জবাবে বললাম, ওপারে কার কাছে জাবেন, কে আপনি।
কিন্তু আমার কথার কোন উওর না দিয়ে ওনি সুধু একটা কথাই বারবার বলছে ওপারে জাবো ওপারে।
এতো মহা ঝামেলায় পড়লাম, ওনি নৌকায় উঠে বসে আছে কোনভাবে নামছেনা, সুধু বলছে ওপারে জাবো, আমি ওনার দিকে তাকিয়ে আর ওনার কথায় কিছুক্ষন পর বুঝতে পারলাম, ওনার মাথায় সমস্যা বলতে পারেন পাগলী। ওনার মাথায় সমস্যা আছে এই ভেবে ভাবলাম দেইনা নদীটা পার করে৷ পাগলী মানুষ এত করে যেহেতু বলছে।
যেই ভাবনা সেই কাজ, আমি ওনাকে নিয়ে চলে আসলাম আমার গ্রামের ঘাটের দিকে, আমি যখন আমাদের গ্রামের ঘাটের দিকে আসছি তখন চাঁদের আলোতে দেখছি কে যেনো হাত ইশারা করে বলছে না না এরকম কিছু৷
সময় ও তারিখ ১৭/৯/২০২৪ (০৯:৩০পিএম )
আইডি এবং পাসওয়ার্ড 31165540 ১১
আমি ইশারাটা বুঝিনি, না বুঝে কিছুক্ষনের মধ্যে, চলে আসলাম আমার গ্রামের ঘাটের দিকে, আমি ঘাটে এসে নৌকাটা বেঁধে নৌকায় থাকা সেই পাগলীকে বললাম ঘাট এসে গেছি নামুন
কথাটা বলে আমি আগে নৌকা থেকে নেমে৷ রওনা করলাম বাড়ির দিকে, আমি যখন হেঁটে হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছি হঠাৎ আমার পিছন থেকে একটা আওয়াজ আসে, কেউ আমাকে বলে, শোনো।
কথাটা বলে পিছনে তাকিয়ে দেখি গত কাল রাতের সেই মেয়েটা, আমি মেয়েটাকে দেখে বলি, এই আপনি কাল হঠাৎ কোথায় উধাও হয়ে গেছিলেন।
মেয়েটা: গেছিলাম কোথাও, আচ্ছা আপনাকে একটা কথা বলি, রাত বেরাতে যাকে তাকে নৌকা দিয়ে নদী পার করতে নেই, কারণ রাতের বেলা জ্বীন পরীরা মানুষের রুপে নদী পার হয়।
মেয়েটার কথায় মুসকি একটা হাসি দিয়ে বললাম, তাই নাকি, কাল রাতেও তো আপনাকে নদী পার করলাম তার মানে কি আপনি পরী৷
আমার কথায় মেয়েটা একটা হাসি দিয়ে বললো৷ হ্যাঁ আমি একটা পরী।
Comments
Post a Comment